স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক
রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ
ও প্রবাল
ইত্যাদি বিশ্ব রহস্যের জীবন্ত পাঠশালায় পরিণত করেছে সেন্টমার্টিনকে। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। অক্টোবর থেকে
মার্চ এই পাঁচ মাস সাধারণত সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলেও প্রায় সারা বছরই
প্রচুর টুরিস্ট ভ্রমন করছেন সেখানে।
![]() |
| ছবিঃ সেন্টমার্টিন দ্বীপে আলো ছায়ার খেলা |
সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে
বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ
হতে প্রায় ৯ কিলো দক্ষিণে এবং মায়ানমার এর উপকূল হতে ৮ কিলো পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায়
অবস্থিত। তাই সেন্টমার্টিন যেতে হলে টেকনাফ থেকে জাহাজ বা ট্রলার ছাড়া বিকল্প কোন উপায়
নেই।
যারা স্বল্প সময়ের
জন্য সেন্টমার্টিনে যেতে চান অর্থাৎ সন্ধ্যার আগে ফিরতে চান তাদের অবশ্যই ৩টার আগে
ফিরতি জাহাজে আরোহণ করতে হবে। ছোট এই দ্বীপ এলাকা ঘুরে দেখতে তিন ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট।
তবে প্রধান দ্বীপ ও ছেড়া দ্বীপে যারা যেতে চান তাদের হাতে বেশ খানিকটা সময় থাকা উচিত।
সেন্ট মার্টিন
একবার পৌঁছালে আপনার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। এর স্বচ্ছ আর নীল পানি দেখে স্থির
থাকা কঠিন। ইচ্ছেমতো পানিতে সাঁতার কাটতে পারেন। তবে ভাটার সময় পানিতে না নামাই ভালো।
দ্বীপের দক্ষিণ দিকে প্রচুর পরিমাণে কেওড়ার ঝোপঝাড় আছে। কিছু ম্যানগ্রোভ বন আছে। অন্যান্য
উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে শেওলা, সাগরলতা, বাইনগাছ ইত্যাদি। সেন্ট মার্টিনে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল
প্রচুর পাওয়া যায়। এর মধ্যে লাল অ্যালগি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ
রয়েছে অসংখ্য স্পঞ্জ, শিল কাঁকড়া। সেন্ট মার্টিন গেলে দেখতে পাবেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক
হুমায়ূন আহমেদের বহুল আলোচিত ‘সমুদ্র বিলাস’।
![]() |
ছবিঃ একলা চলোরে
|
পর্যটকদের খাবারের জন্য
রয়েছে এখানে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ। তার কয়েকটি হল কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ ইত্যাদি। তবে
সমুদ্রে গেলে সাধারণত সি ফুড খাওয়াই উত্তম। কোরাল বার বি কিউ, রূপচাঁদা, রেড
স্নাপার, ফ্লাইং ফিশ, লইট্টা ফ্রাই, টুনা ফিশ ইত্যাদি সাধারণত পর্যটকদের প্রথম পছন্দ
হয়ে থাকে।
![]() |
| ছবিঃ দ্বীপে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরণের সামুদ্রিক মাছ |
সেন্টমার্টিনে থাকার
জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। ২০টি হোটেলসহ বেশ ক’টি কটেজে প্রতিরাতে
কমপক্ষে ৫০০ জন পর্যটক থাকতে পারেন। অনেক বাড়িতেও আছে পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা।
ভাড়া পড়বে ৪০০-৫০০ টাকা। তবে শীত মৌসুমে চাপ বেশি
থাকায় ইচ্ছামতো ভাড়া নেয় মালিকরা।
![]() |
| ছবিঃ রিসোর্ট সীমানা পেরিয়ে |
সেন্ট মার্টিন
থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছেঁড়া দ্বীপের অবস্থান। এর আয়তন তিন কিলোমিটার। সেন্ট মার্টিন
থেকে ছেঁড়া দ্বীপে যেতে হবে নৌকায়। স্পিডবোটেও যেতে পারেন। সময় লাগবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট।
ভাড়া ১০০ টাকা। ছেঁড়া দ্বীপে দেখা যাবে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। সামুদ্রিক ঢেউ আর সারি
সারি নারকেলগাছ। প্রবাল পাথর ও পাথরের তৈরি বিভিন্ন
![]() |
ছবিঃ
ছেঁড়া দ্বীপ
|
কারুকার্য
চোখে পড়বে এখানে। জায়গাটি ঘুরতে এক ঘণ্টাই যথেষ্ট। তবে পূর্ণিমার রাতে অপূর্ব রূপে
সাজে ছেঁড়া দ্বীপ।






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন