এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮

ফুচকা চটপটির ব্যবসায় কম বিনিয়োগ কিন্তু বেশি লাভ

চটপটি ও ফুচকা সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই প্রিয় একটি খাবার। ডাবলি বুট দিয়ে তৈরি এ ধরণের খাদ্যের চাহিদা সারা বছর প্রায় একই থাকে।
স্কুল, কলেজ, বাসস্ট্যান্ড, রাস্তার মোড়, মেলা ইত্যাদি স্থানে চটপটির ব্যবসা বরাবরই লাভজনক বলে মনে করেন এর বিক্রেতারা। ফলে এই জাতীয় খাবারের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারের সংখ্যাও সারা দেশে নিতান্ত কম নয়।

ছবিঃ ফুচকা হাতে রমণী   

যে
কেউ আসতে পারেন এই ব্যবসায় রাজধানীর পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারের ফুচকা ব্যবসায়ী কাশেম আলী বলেনকম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়াতে নিয়মিত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেকেই ঈদ বা বিশেষ মৌসুমগুলোতে করে থাকেন ফুচকা-চটপটির ব্যবসা। তিনি আরও বলেনএসব বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে যে কোনো পেশার লোক এই ব্যবসা করতে পারেন। তাছাড়াও অনেক শিক্ষিত লোক আছে যারা এই ব্যবসা করে থাকেন।


ছবিঃ শাঁখারিবাজারে কাশেম আলীর ফুচকার দোকান

এই ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয় ফুচকা ব্যবসায়ী কাশেম আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেনফুচকা-চটপটির ব্যবসা শুরু করতে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেই চলবে। তাছাড়া বড় পরিসরে ব্যবসা করতে চাইলে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে পারে। 
৫০ ঊর্ধ্ব রহিম মিয়া ২২ বছর বয়স থেকেই চটপটি বিক্রি করেন। এই ব্যবসায় লাভ কেমন তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আগে তার দৈনিক আয় হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন তার চারটি ফুচকা ও চটপটির ভ্যান রয়েছে। ভ্যানপ্রতি তার প্রতিদিনের আয় কমপক্ষে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। 


ছবিঃ ফুচকা ব্যবসায়ী রহিম মিয়া

এছাড়া গোপীবাগের ফুচকা ব্যবসায়ী শিরীন আক্তার বলেনউৎসবের দিনগুলোতে বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত ফুচকার প্লেট ৪০ টাকা চটপটির প্লেট ৩৫ টাকায় বিক্রি করা হয়ে থাকে। তাছাড়া একেক জায়গায় একেক দামে বিক্রি করে থাকেন বিক্রেতারা। সেক্ষেত্রে প্লেটপ্রতি দাম কমতে বা বাড়তে পারে। আবার বিক্রেতারা ক্রেতাদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে দোকানে নানা ধরনের ফুচকা বিক্রি করে থাকেনযেমন- মিষ্টি ফুচকাদই ফুচকাইন্ডিয়ান ফুচকা ইত্যাদি। দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। তাছাড়া এগুলোর দাম আবার একেক জায়গায় একেক রকম বিক্রি করে থাকেন বিক্রেতারা। সব মিলিয়ে এটুকুই বলা যায়বিনিয়োগ যতই হোক না কেনলাভের পরিমাণ দুই থেকে তিনগুণ বেশি হয়ে থাকে।


ছবিঃ চটপটি ফুচকার দোকান

রহিম মিয়া, কাশেম আলী কিংবা শিরীন আক্তারের মতো অনেকেই আছেন যারা ফুচকা ও চটপটি বিক্রি করে পরিবার চালান। দোকানের মতো একটি ভ্যান করেই বিভিন্ন স্থানে চটপটি ও ফুচকা বিক্রি করেন তারা। আবার অনেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের সামনে ছোট রেস্টুরেন্টের মতো দোকানও দেন। 


ছবিঃ ফুচকা

মূলত বিনিয়োগ কম এবং ক্রেতা বেশি হওয়ায় এখন অনেকেই এ ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন।  




নানা সমস্যায় জর্জরিত জাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পার করলেও এখনও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্ণতা পায়নি। যার ফলে সিট সংকট, বই স্বল্পতা ও অব্যাবস্থাপনা সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মুল উপাদানটি
১৯৮৫ সালে লাইব্রেরীর মুল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার  ৪৬ বছর পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এনিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

ছবি : কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী আছে যেখানে তাদের জন্য সিট সংখ্যা মাত্র ২৫০ টি, আর শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ৮-১০টি সিট। এছাড়াও বই স্বল্পতার কারণে বই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় অনেককে।
রসায়ন বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের  শিক্ষার্থী তানভির ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টার সময় থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা করে আমাদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রবেশ করতে হয়। এমনও হয় যে আমরা এত সকালে এসেও সিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গিয়েছি
তিনি
আরো বলে, প্রশাসন এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

ছবি : কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, জাবি। প্রতিদিন এইভাবেই শিক্ষার্থীদের লাইনে দাড়িয়ে লাইব্রেরীর সিট পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে হয়।



এই বিষয় জানতে চাওয়া হলে ডেপুটি রেজিস্টার বদরুল আলম বলেন, ১৯৮৫ সালে লাইব্রেরীর মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর ৫৫ হাজার বর্গফুটের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি ৪৫ হাজার বর্গফুটের কাজ আজও শেষ হয়নি। তিনি আরও বলেন, মূল ভবনের পাশে আর একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলেও তার নির্মাণ কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
লাইব্রেরীর সিট সংকটের মতো আরও একটি সংকট হচ্ছে বইয়ের সংকট। যদিও কাগজে কলমে বই, জার্নাল ও রেফারেন্স বই রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষের কাছাকাছি। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ লাইব্রেরীতে অনেক বই পাওয়া যায় না। যেসব বই পাওয়া যায় তারও আবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাতা, লেখা বা ছবিগুলো কাটা ছেঁড়া অবস্থায় থাকে। পর্যাপ্ত বই কেনার জন্য প্রতিবছর যা বাজেট দেওয়া হয় সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

ছবিঃ লাইব্রেরীর অধিকাংশ সেলফগুলো খালি  

এ বিষয়ে উপ-গ্রন্থাগারিক রেজাউল হক শুভর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বাজেটে লাইব্রেরীর স্টাফের বেতন, ভাতা, মুদ্রণ, বইকেনা, কম্পিউটার, ক্যাফে ইত্যাদি সহ বরাদ্দা ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু উক্ত সমস্যা সমাধানে এই বছরে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
এদিকে সর্বশেষ গত রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লাইব্রেরীর সামনে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ব্যাগ দিয়ে লাইন তৈরি করে লাইব্রেরীর প্রবেশদ্বার খোলার অপেক্ষায় বসে আছেটা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত কর্মচারী প্রবেশদ্বার খুলে দিলে সবাই ভেতরে প্রবেশ করেন। সিট না পেয়ে ফেরত আসতেও দেখা গেল কয়েকজনকে।

ছবিঃ ব্যাগ দিয়ে লাইন তৈরি করে লাইব্রেরী খোলার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা 


আইটি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজন হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় আমরা কয়েকশো জন লাইনে দাড়িয়ে থাকি তারপর সিট পাই, লাইনে না দাড়িয়ে সিট পাওয়া খুবই কষ্টকর। যারা একটু দেরিতে আসেন তাদের ভাগ্যেতো সিটই জুটে না। তিনি আরও বলেন, প্রায় সিট পাই কিন্তু সিটের উপর নেই পর্যাপ্ত ফ্যান বা লাইট ফলে গরমের সময় পড়াশোনা করতে হিমশিম খাচ্ছি। তাই কৃর্তপক্ষকে দ্রুত লাইব্রেরীর আসন সংকট এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা দূর করতে জোর দাবী জানাচ্ছি।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর প্রথম কয়েক মাস সিট না পেলেও কৃর্তপক্ষের নতুন নিয়ম করার পর এখন সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হয়েছে। কিন্তু মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত ৮টি সিট প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য

ছবিঃ জাবি লাইব্রেরী



এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার বলেন, “গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আসন সংখ্যা ইতোমধ্যে কিছু বাড়ানো হয়েছে। আরো আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।“ মূল ভবনের পাশে আরেকটি ভবনের ভিত্তি তৈরি করে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি উপাচার্যকে জানিয়েছি। আশা করছি তিনি দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করবেন।
গ্রন্থাগারের এই সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন বারবার আশার আলো দিলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ এখনও চোখে পরেনি। মেধা ও মননে সমৃদ্ধ একটি জাতি গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষার্থীদের প্রানের দাবী, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে পূর্ণাঙ্গ একটি গ্রন্থাগার হিসেবে দ্রুতই প্রতিষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন।



বাতাসে বিরিয়ানির সুঘ্রাণ যেখানে...


বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন ভোজনরসিক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু পছন্দ করলেই তো হবে না, বিরিয়ানি হওয়া চাই সুস্বাদু ও  স্বাস্থ্যসম্মত। তা ছাড়া দামটাও হাতের নাগালে হতে হবে। বাঙালির রসানায় এ এক খাবার যার চাহিদা সারা বছরই লেগে আছে। ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে গজিয়ে ওঠা এবং টিকে যাওয়া বিরিয়ানির দোকানের দেখা পাওয়াই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।



তবে হালের গজিয়ে ওঠা বিরিয়ানির দোকানের সাথে স্বাদে আর গন্ধে টিকে আছে গুটিকয়েক বিরিয়ানির দোকান। এরকমই একটা বিরিয়ানির দেখা মিলবে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের ভেতর। নাম কামাল বিরিয়ানি হাউজ। দোকানের মালিকের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে।




এই বিরিয়ানি স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয়। চমৎকার ঝরঝরে চাল, আর নানান রকম মসলায় কষানো মাংসের যে অসামান্য মেল বন্ধন তাতে সোনায় সোহাগা হিসেবে যোগ হয় লাল করে ভাজা আলুর টুকরো। এই আলুর স্বাদও এমনই যে বিরিয়ানির অর্ধেকটা আলু দিয়েই খেয়ে ফেলা যায়। সেটা যদি খেয়ে ফেলেন চাইলেই আপনাকে আরেকটা আলু দেবে ওরা। চাইকি একটু বাড়তি পোলাও কিংবা লোকজন কম থাকলে এক টুকরো বাড়তি মাংসও উঠে আসবে আপনার পাতে। দোকানের আকার ছোটো হলেও দোকান মালিকের যে কলিজা বড় তা সেখানে না খেলে বোঝার উপায় নেই।




এই বিরিয়ানি সুস্বাদু হওয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে দোকানের কর্মচারী আফতাব হোসেন বলেন “আমরা লাকড়ির চুলায় বিরিয়ানি রান্না করি, অন্যরা গ্যাসের চুলায় রান্না করে।“
মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের সাথে বোবা বিরিয়ানির আরেকটু সামনের দিকে আগালেই চোখে পড়বে এই কামাল বিরিয়ানি হাউজ। ছোটখাটো দোকানটিতে পা রাখার জায়গা নেই, আছে শুধু বিরিয়ানির মৌ মৌ করা ঘ্রান আর সকলের বিরিয়ানির সাথে নলি পাওয়ার আবদার! এত এত কাস্টমারদের হাসিমুখেই বিরিয়ানি সার্ভ করে যাচ্ছেন দোকানের মালিক নিজেই। সকলকে তো আর নলি দিয়ে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয়না, তবে বিরিয়ানি তে মাংসের এবং পরিমানের কোনধরনের কমতি রাখেন না তিনি




বিহারিদের কাচ্চি স্টাইলে রান্না করা গরুর বিরিয়ানি যা চিনিগুড়া চাল দিয়ে রান্না করা হয়। মাংসের পরিমান ভাল দেয় এবং মাঝে মধ্যে মটরশুঁটির দেখাও পাবেন। আলুগুলো জাফরানের তেলে ভেজে দেয়ায় দেখতে অসাধারণ লাগে। কথা বলে জানা গেছে যে এরা ১২০ কেজি চালের সাথে ১২০ কেজি মাংস এবং ৬০ কেজি আলু ব্যবহার করে, যার ফলে বিরিয়ানি তে মাংসের কোন কমতি থাকেনা এবং সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই পরিবেশন করা হয়।



সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বিরিয়ানির মূল্য। এখানে ৫০ টাকা থেকে বিরিয়ানি শুরু। হাফ বিরিয়ানি পাবেন ৫০ টাকায় যেটায় থাকবে ১ টুকরা আলু আর ১ টুকরো মাংস। ৮০ টাকায় পাবেন ফুল বিরিয়ানি যার মধ্যে থাকবে ১ টুকরা আলু আর ২ টুকরো মাংস এবং রাইস থাকবে ডাবল। ১২০ টাকায় পাবেন স্পেশাল বিরিয়ানিটি যার মধ্যে ৩-৫/৬ টুকরো মাংস থাকবে ১ পিস আলুর সাথে এবং রাইস থাকবে পরিমানে অনেক বেশি। আর স্পেশাল যেটা, সেই কাঙ্খিত নলির সন্ধান এই প্লেটেই মিলবে।



এরা এক ধরনের কাবাব বা টিকা যে যেটা বলেন, এর ব্যবস্থাও করে থাকে তবে এটা সন্ধ্যার পরে ছাড়া পাবেন না। কোক, স্প্রাইট বা বোরহানির ব্যবস্থাও চাইলে করে দিতে পারে তবে সমস্যা একটাই আর তা হল বসে খাওয়ার জায়গার সঙ্কট। যে কারনে বেশিরভাগই পার্সেল করে নিয়ে আসেন। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে তারা নতুন বড় দোকান নিচ্ছে কাস্টমারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে। প্রায় ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে তাদের সার্ভিস। কমদামে এত ভালো বিরিয়ানির স্বাদ নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে ফেরেনি এখন পর্যন্ত।






ঘুরে আসুন সেন্টমার্টিনে


স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ ও প্রবাল ইত্যাদি বিশ্ব রহস্যের জীবন্ত পাঠশালায় পরিণত করেছে সেন্টমার্টিনকে।  এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। অক্টোবর থেকে মার্চ এই পাঁচ মাস সাধারণত সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলেও প্রায় সারা বছরই প্রচুর টুরিস্ট ভ্রমন করছেন সেখানে।


ছবিঃ সেন্টমার্টিন দ্বীপে আলো ছায়ার খেলা 


সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর পূর্বাংশে অবস্থিত একটি প্রবালদ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলো দক্ষিণে এবং মায়ানমার এর উপকূল হতে ৮ কিলো পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। তাই সেন্টমার্টিন যেতে হলে টেকনাফ থেকে জাহাজ বা ট্রলার ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই।

বাংলাদেশের যে কোনও স্থান থেকে সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে প্রথমে জিপ, বাস বা অটোতে চড়ে টেকনাফ, এবং টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ কিংবা ট্রলারে চড়ে পৌঁছাবেন সেন্টমার্টিনে।


ছবিঃ জাহাজ কেয়ারি সিনবাদ 


যারা স্বল্প সময়ের জন্য সেন্টমার্টিনে যেতে চান অর্থাৎ সন্ধ্যার আগে ফিরতে চান তাদের অবশ্যই ৩টার আগে ফিরতি জাহাজে আরোহণ করতে হবে। ছোট এই দ্বীপ এলাকা ঘুরে দেখতে তিন ঘণ্টা সময়ই যথেষ্ট। তবে প্রধান দ্বীপ ও ছেড়া দ্বীপে যারা যেতে চান তাদের হাতে বেশ খানিকটা সময় থাকা উচিত।

সেন্ট মার্টিন একবার পৌঁছালে আপনার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে। এর স্বচ্ছ আর নীল পানি দেখে স্থির থাকা কঠিন। ইচ্ছেমতো পানিতে সাঁতার কাটতে পারেন। তবে ভাটার সময় পানিতে না নামাই ভালো। দ্বীপের দক্ষিণ দিকে প্রচুর পরিমাণে কেওড়ার ঝোপঝাড় আছে। কিছু ম্যানগ্রোভ বন আছে। অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে শেওলা, সাগরলতা, বাইনগাছ ইত্যাদি। সেন্ট মার্টিনে বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক শৈবাল প্রচুর পাওয়া যায়। এর মধ্যে লাল অ্যালগি সবচেয়ে জনপ্রিয়। ১৯ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীসহ রয়েছে অসংখ্য স্পঞ্জ, শিল কাঁকড়া। সেন্ট মার্টিন গেলে দেখতে পাবেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বহুল আলোচিত ‘সমুদ্র বিলাস’।


ছবিঃ একলা চলোরে 


পর্যটকদের খাবারের জন্য রয়েছে এখানে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ। তার কয়েকটি হল কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ ইত্যাদি। তবে  সমুদ্রে গেলে সাধারণত সি ফুড খাওয়াই উত্তম। কোরাল বার বি কিউ, রূপচাঁদা, রেড স্নাপার, ফ্লাইং ফিশ, লইট্টা ফ্রাই, টুনা ফিশ ইত্যাদি সাধারণত পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে থাকে।


ছবিঃ দ্বীপে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানা ধরণের সামুদ্রিক মাছ 


সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। ২০টি হোটেলসহ বেশ ক’টি কটেজে প্রতিরাতে কমপক্ষে ৫০০ জন পর্যটক থাকতে পারেন। অনেক বাড়িতেও আছে পর্যটকদের জন্য থাকার ব্যবস্থা। ভাড়া পড়বে ৪০০-৫০০ টাকা। তবে শীত মৌসুমে চাপ বেশি থাকায় ইচ্ছামতো ভাড়া নেয় মালিকরা।


ছবিঃ রিসোর্ট সীমানা পেরিয়ে


সেন্ট মার্টিন থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ছেঁড়া দ্বীপের অবস্থান। এর আয়তন তিন কিলোমিটার। সেন্ট মার্টিন থেকে ছেঁড়া দ্বীপে যেতে হবে নৌকায়। স্পিডবোটেও যেতে পারেন। সময় লাগবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। ভাড়া ১০০ টাকা। ছেঁড়া দ্বীপে দেখা যাবে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য। সামুদ্রিক ঢেউ আর সারি সারি নারকেলগাছ। প্রবাল পাথর ও পাথরের তৈরি বিভিন্ন


ছবিঃ ছেঁড়া দ্বীপ 


কারুকার্য চোখে পড়বে এখানে। জায়গাটি ঘুরতে এক ঘণ্টাই যথেষ্ট। তবে পূর্ণিমার রাতে অপূর্ব রূপে সাজে ছেঁড়া দ্বীপ।





সেন্টমার্টিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘বাইসাইকেল’


চারেদিকে সাগর, তার মাঝে বাইসাইকেল চালানো ভাবতেই অবাক লাগে। সত্যি অনেক মজার বিষয়। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ‘বাইসাইকেল’। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও বাইসাইকেল একটি আকর্ষণীয় মাধ্যম। সহজেই সাইকেল চালিয়ে সেন্টমার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বলেই ক্রমশ সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে।

ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়ায় সাইকেল পাওয়া যায় সেন্টমার্টিনে আবার পর্যটকের চাহিদা বেশি থাকলে সাইকেলের ভাড়া অনেক সময় বেশি হয়। পর্যটকরা সাইকেল ভাড়া করে চাইলে পুরো দ্বীপটা ঘুরতে পারে।

ছবিঃ সেন্টমার্টিনে সাইকেল

আবার সাগরের পাথর বালু মিশ্রিত পথে সাইকেল নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সেন্টমার্টিনের সুস্বাদু ডাব তো আছেই যেটি খেয়ে কিছু সময় ক্লান্তি নিবারণের চেষ্টা করাই যায়


ছবিঃ সাইকেল চালানোর ক্লান্ত ভাব দূর করতে সেন্টমার্টিনের ডাব তো আছেই


দ্বীপের চারদিকে নীল সমুদ্রের পানি ও জীব বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা ছুটছেন বাইসাইকেল নিয়ে। কেউ একা, কেউ আবার দল বেঁধে ঘুরে ঘুরে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

ছবিঃ দল বেঁধে সাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ 


এক সময় দ্বীপে চলাচলের জন্য ভ্যান গাড়ি ছাড়া তেমন কোনো যানবাহন ছিল না। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাইসাইকেল।

ছবিঃ এক সময়ে শুধু ভ্যানই ছিল সেন্টমার্টিনের ট্রান্সপোর্ট। 

প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারের এ দ্বীপে চারদিকে পর্যটকরা ঘুরতে পারেন বাইসাইকেল চড়ে। তবে পশ্চিম দিকে বিশাল বড় পাথরগুলো গতিরোধ করলেও সাইকেল হাতে তুলে আবারও চালিয়ে ঘুরা সম্ভব।

ছবিঃ চালাতে অসুবিধে হলে সাইকেল হাতে তুলে আবারও চালিয়ে ঘুরা সম্ভব।


স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় সব সাইকেলই ভাড়া হয়ে যায়। কোনো জামানত ছাড়াই ঘণ্টায় ৪০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হয়। অনেকেই এই সাইকেল দিয়ে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় করেন।
এই ব্যাপারে দ্বিপের সাইকেল ব্যবসায়ী রহিম মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে তার ৫ টি সাইকেল থাকলেও চাহিদা বাড়ায় ও লাভজনক হওয়ায় তিনি এখন ২০টি সাইকেল এনেছেন।
প্রথম দিকে এই ব্যবসা মাত্র কয়েকজন শুরু করলেও এখন ‘দ্বীপে প্রচুর সাইকেল ব্যবসায়ী রয়েছেন। সব মিলে প্রায় ৫০০ টি সাইকেল রয়েছে। প্রায় ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে কম বেশি সবাই সাইকেল ব্যবহার করছে। তবে স্থানীয়দের চেয়ে পর্যটকরাই বেশি সাইকেল ভাড়া নেন।’
 প্রচুর প্রবাল পাথর স্বচ্ছ পানিতে জীব বৈচিত্র্যের আনাগোনা দেখতে পর্যটকরা ছুটে যান ছেঁড়াদ্বীপে। ট্রলারযোগে ছেঁড়াদ্বীপ থেকে ২০ মিনিট লাগলেও বাইসাইকেলে এর চেয়ে কম সময় লাগে।
সেন্টমার্টিনের ভিতরেও সাইকেল চালিয়ে সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। ভেতর অংশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কেওড়া গাছ, নারিকেল গাছের মোহনীয় দৃশ্য দেখা যায় সাইকেলে চড়ে।

ছবিঃ সাইকেল চালিয়ে সেন্টমার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় 


কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষে ক্ষুদ্র এ দ্বীপটি কেবল বাংলাদেশীদের কাছে নয়, বিশ্ববাসীর জন্য আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কিছু উত্তর-দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন।’
ভৌগলিকভাবে সেন্টমার্টিন তিন অংশে বিভক্ত। উত্তর পাড়া, মধ্য পাড়া ও দক্ষিণ পাড়া। প্রবাল দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ ছেঁড়াদ্বীপ। জোয়ারের সময় সেন্টমার্টিনের মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেই এটাকে ছেঁড়াদ্বীপ বলা হয়। প্রতি বছর দেশি বিদেশি লাখো পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসেন। তাই শুধু দ্বীপ দেখতেই নয় সাগর পাড়ে সাইকেল চালাতেও যেতে পারে সেন্টমার্টিনে। দ্বীপের বালিতে প্রচুর পরিমাণ পাথকুচি থাকায় সাইকেল চাঁকা দেবে যায় না। তাই সীমাহীন আনন্দে সহজেই সাইকেল নিয়ে ঘুরা যায় পুরো সেন্টমার্টিনে।