এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮

নানা সমস্যায় জর্জরিত জাবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠার ৩ বছর পার করলেও এখনও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে পূর্ণতা পায়নি। যার ফলে সিট সংকট, বই স্বল্পতা ও অব্যাবস্থাপনা সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মুল উপাদানটি
১৯৮৫ সালে লাইব্রেরীর মুল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার  ৪৬ বছর পরও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থাগার এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এনিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা।

ছবি : কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী আছে যেখানে তাদের জন্য সিট সংখ্যা মাত্র ২৫০ টি, আর শিক্ষকদের জন্য রয়েছে ৮-১০টি সিট। এছাড়াও বই স্বল্পতার কারণে বই না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হয় অনেককে।
রসায়ন বিভাগের ৪২ তম ব্যাচের  শিক্ষার্থী তানভির ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিদিন সকাল ৬টার সময় থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা করে আমাদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রবেশ করতে হয়। এমনও হয় যে আমরা এত সকালে এসেও সিট না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে গিয়েছি
তিনি
আরো বলে, প্রশাসন এ ব্যাপারে বরাবরই উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছে।

ছবি : কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, জাবি। প্রতিদিন এইভাবেই শিক্ষার্থীদের লাইনে দাড়িয়ে লাইব্রেরীর সিট পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে হয়।



এই বিষয় জানতে চাওয়া হলে ডেপুটি রেজিস্টার বদরুল আলম বলেন, ১৯৮৫ সালে লাইব্রেরীর মূল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর ৫৫ হাজার বর্গফুটের কাজ সম্পন্ন হলেও বাকি ৪৫ হাজার বর্গফুটের কাজ আজও শেষ হয়নি। তিনি আরও বলেন, মূল ভবনের পাশে আর একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলেও তার নির্মাণ কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
লাইব্রেরীর সিট সংকটের মতো আরও একটি সংকট হচ্ছে বইয়ের সংকট। যদিও কাগজে কলমে বই, জার্নাল ও রেফারেন্স বই রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষের কাছাকাছি। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ লাইব্রেরীতে অনেক বই পাওয়া যায় না। যেসব বই পাওয়া যায় তারও আবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাতা, লেখা বা ছবিগুলো কাটা ছেঁড়া অবস্থায় থাকে। পর্যাপ্ত বই কেনার জন্য প্রতিবছর যা বাজেট দেওয়া হয় সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

ছবিঃ লাইব্রেরীর অধিকাংশ সেলফগুলো খালি  

এ বিষয়ে উপ-গ্রন্থাগারিক রেজাউল হক শুভর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে বাজেটে লাইব্রেরীর স্টাফের বেতন, ভাতা, মুদ্রণ, বইকেনা, কম্পিউটার, ক্যাফে ইত্যাদি সহ বরাদ্দা ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু উক্ত সমস্যা সমাধানে এই বছরে তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
এদিকে সর্বশেষ গত রবিবার সকাল সাড়ে ৬ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, লাইব্রেরীর সামনে প্রায় ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী ব্যাগ দিয়ে লাইন তৈরি করে লাইব্রেরীর প্রবেশদ্বার খোলার অপেক্ষায় বসে আছেটা ৩০ মিনিটে কর্তব্যরত কর্মচারী প্রবেশদ্বার খুলে দিলে সবাই ভেতরে প্রবেশ করেন। সিট না পেয়ে ফেরত আসতেও দেখা গেল কয়েকজনকে।

ছবিঃ ব্যাগ দিয়ে লাইন তৈরি করে লাইব্রেরী খোলার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা 


আইটি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজন হোসেন বলেন, প্রতিদিন প্রায় আমরা কয়েকশো জন লাইনে দাড়িয়ে থাকি তারপর সিট পাই, লাইনে না দাড়িয়ে সিট পাওয়া খুবই কষ্টকর। যারা একটু দেরিতে আসেন তাদের ভাগ্যেতো সিটই জুটে না। তিনি আরও বলেন, প্রায় সিট পাই কিন্তু সিটের উপর নেই পর্যাপ্ত ফ্যান বা লাইট ফলে গরমের সময় পড়াশোনা করতে হিমশিম খাচ্ছি। তাই কৃর্তপক্ষকে দ্রুত লাইব্রেরীর আসন সংকট এবং অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা দূর করতে জোর দাবী জানাচ্ছি।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর প্রথম কয়েক মাস সিট না পেলেও কৃর্তপক্ষের নতুন নিয়ম করার পর এখন সমস্যা কিছুটা হলেও সমাধান হয়েছে। কিন্তু মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত ৮টি সিট প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগণ্য

ছবিঃ জাবি লাইব্রেরী



এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. অজিত কুমার মজুমদার বলেন, “গ্রন্থাগারে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য আসন সংখ্যা ইতোমধ্যে কিছু বাড়ানো হয়েছে। আরো আসন সংখ্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।“ মূল ভবনের পাশে আরেকটি ভবনের ভিত্তি তৈরি করে রাখা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি উপাচার্যকে জানিয়েছি। আশা করছি তিনি দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করবেন।
গ্রন্থাগারের এই সংকট নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন বারবার আশার আলো দিলেও ইতিবাচক পদক্ষেপ এখনও চোখে পরেনি। মেধা ও মননে সমৃদ্ধ একটি জাতি গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অপরিসীম। তাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষার্থীদের প্রানের দাবী, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটির যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে পূর্ণাঙ্গ একটি গ্রন্থাগার হিসেবে দ্রুতই প্রতিষ্ঠিত হবে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন