এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮

ফুচকা চটপটির ব্যবসায় কম বিনিয়োগ কিন্তু বেশি লাভ

চটপটি ও ফুচকা সব বয়সী মানুষের কাছে খুবই প্রিয় একটি খাবার। ডাবলি বুট দিয়ে তৈরি এ ধরণের খাদ্যের চাহিদা সারা বছর প্রায় একই থাকে।
স্কুল, কলেজ, বাসস্ট্যান্ড, রাস্তার মোড়, মেলা ইত্যাদি স্থানে চটপটির ব্যবসা বরাবরই লাভজনক বলে মনে করেন এর বিক্রেতারা। ফলে এই জাতীয় খাবারের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারের সংখ্যাও সারা দেশে নিতান্ত কম নয়।

ছবিঃ ফুচকা হাতে রমণী   

যে
কেউ আসতে পারেন এই ব্যবসায় রাজধানীর পুরান ঢাকার শাঁখারিবাজারের ফুচকা ব্যবসায়ী কাশেম আলী বলেনকম বিনিয়োগে বেশি লাভ হওয়াতে নিয়মিত ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অনেকেই ঈদ বা বিশেষ মৌসুমগুলোতে করে থাকেন ফুচকা-চটপটির ব্যবসা। তিনি আরও বলেনএসব বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে যে কোনো পেশার লোক এই ব্যবসা করতে পারেন। তাছাড়াও অনেক শিক্ষিত লোক আছে যারা এই ব্যবসা করে থাকেন।


ছবিঃ শাঁখারিবাজারে কাশেম আলীর ফুচকার দোকান

এই ব্যবসা শুরু করতে কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয় ফুচকা ব্যবসায়ী কাশেম আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেনফুচকা-চটপটির ব্যবসা শুরু করতে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগ করলেই চলবে। তাছাড়া বড় পরিসরে ব্যবসা করতে চাইলে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়তে পারে। 
৫০ ঊর্ধ্ব রহিম মিয়া ২২ বছর বয়স থেকেই চটপটি বিক্রি করেন। এই ব্যবসায় লাভ কেমন তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আগে তার দৈনিক আয় হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন তার চারটি ফুচকা ও চটপটির ভ্যান রয়েছে। ভ্যানপ্রতি তার প্রতিদিনের আয় কমপক্ষে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা। 


ছবিঃ ফুচকা ব্যবসায়ী রহিম মিয়া

এছাড়া গোপীবাগের ফুচকা ব্যবসায়ী শিরীন আক্তার বলেনউৎসবের দিনগুলোতে বিক্রি অনেক বেড়ে যায়। সাধারণত ফুচকার প্লেট ৪০ টাকা চটপটির প্লেট ৩৫ টাকায় বিক্রি করা হয়ে থাকে। তাছাড়া একেক জায়গায় একেক দামে বিক্রি করে থাকেন বিক্রেতারা। সেক্ষেত্রে প্লেটপ্রতি দাম কমতে বা বাড়তে পারে। আবার বিক্রেতারা ক্রেতাদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে দোকানে নানা ধরনের ফুচকা বিক্রি করে থাকেনযেমন- মিষ্টি ফুচকাদই ফুচকাইন্ডিয়ান ফুচকা ইত্যাদি। দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। তাছাড়া এগুলোর দাম আবার একেক জায়গায় একেক রকম বিক্রি করে থাকেন বিক্রেতারা। সব মিলিয়ে এটুকুই বলা যায়বিনিয়োগ যতই হোক না কেনলাভের পরিমাণ দুই থেকে তিনগুণ বেশি হয়ে থাকে।


ছবিঃ চটপটি ফুচকার দোকান

রহিম মিয়া, কাশেম আলী কিংবা শিরীন আক্তারের মতো অনেকেই আছেন যারা ফুচকা ও চটপটি বিক্রি করে পরিবার চালান। দোকানের মতো একটি ভ্যান করেই বিভিন্ন স্থানে চটপটি ও ফুচকা বিক্রি করেন তারা। আবার অনেকে বিভিন্ন স্কুল কলেজের সামনে ছোট রেস্টুরেন্টের মতো দোকানও দেন। 


ছবিঃ ফুচকা

মূলত বিনিয়োগ কম এবং ক্রেতা বেশি হওয়ায় এখন অনেকেই এ ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন।  




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন