চারেদিকে সাগর, তার মাঝে বাইসাইকেল চালানো ভাবতেই অবাক লাগে।
সত্যি অনেক মজার বিষয়। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে
উঠছে ‘বাইসাইকেল’। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্যও বাইসাইকেল একটি আকর্ষণীয়
মাধ্যম। সহজেই সাইকেল চালিয়ে সেন্টমার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায় বলেই
ক্রমশ সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে।
ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়ায় সাইকেল পাওয়া যায় সেন্টমার্টিনে। আবার পর্যটকের চাহিদা বেশি থাকলে সাইকেলের ভাড়া অনেক সময় বেশি হয়। পর্যটকরা সাইকেল ভাড়া করে চাইলে পুরো দ্বীপটা ঘুরতে পারে।
![]() |
| ছবিঃ সেন্টমার্টিনে সাইকেল |
আবার সাগরের পাথর বালু মিশ্রিত পথে সাইকেল নিয়ে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে পড়লে সেন্টমার্টিনের সুস্বাদু ডাব তো আছেই যেটি খেয়ে কিছু সময় ক্লান্তি নিবারণের চেষ্টা করাই যায়।
![]() |
| ছবিঃ সাইকেল চালানোর ক্লান্ত ভাব দূর করতে সেন্টমার্টিনের ডাব তো আছেই |
দ্বীপের চারদিকে নীল সমুদ্রের পানি ও জীব বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য
দেখতে পর্যটকরা ছুটছেন বাইসাইকেল নিয়ে। কেউ একা, কেউ আবার দল
বেঁধে ঘুরে ঘুরে সেন্টমার্টিনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
![]() |
| ছবিঃ দল বেঁধে সাইকেল নিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ |
এক সময় দ্বীপে চলাচলের জন্য ভ্যান গাড়ি ছাড়া তেমন কোনো যানবাহন
ছিল না। কিন্তু বছর দুয়েক ধরে ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাইসাইকেল।
![]() |
| ছবিঃ এক সময়ে শুধু ভ্যানই ছিল সেন্টমার্টিনের ট্রান্সপোর্ট। |
প্রায় ৮ বর্গ কিলোমিটারের এ দ্বীপে চারদিকে পর্যটকরা ঘুরতে
পারেন বাইসাইকেল চড়ে। তবে পশ্চিম দিকে বিশাল বড় পাথরগুলো গতিরোধ করলেও সাইকেল হাতে
তুলে আবারও চালিয়ে ঘুরা সম্ভব।
![]() |
| ছবিঃ চালাতে অসুবিধে হলে সাইকেল হাতে তুলে আবারও চালিয়ে ঘুরা সম্ভব। |
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন প্রায় সব সাইকেলই ভাড়া
হয়ে যায়। কোনো জামানত ছাড়াই ঘণ্টায় ৪০ টাকা করে ভাড়া দেওয়া হয়। অনেকেই এই সাইকেল
দিয়ে দৈনিক প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় করেন।
এই ব্যাপারে দ্বিপের সাইকেল ব্যবসায়ী রহিম মিয়ার কাছে জানতে
চাইলে তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগে তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে তার ৫ টি সাইকেল
থাকলেও চাহিদা বাড়ায় ও লাভজনক হওয়ায় তিনি এখন ২০টি সাইকেল এনেছেন।
প্রথম দিকে এই ব্যবসা মাত্র কয়েকজন শুরু করলেও এখন ‘দ্বীপে
প্রচুর সাইকেল ব্যবসায়ী রয়েছেন। সব মিলে প্রায় ৫০০ টি সাইকেল রয়েছে। প্রায় ১০
হাজার জনসংখ্যার মধ্যে কম বেশি সবাই সাইকেল ব্যবহার করছে। তবে স্থানীয়দের চেয়ে
পর্যটকরাই বেশি সাইকেল ভাড়া নেন।’
প্রচুর প্রবাল পাথর স্বচ্ছ পানিতে জীব
বৈচিত্র্যের আনাগোনা দেখতে পর্যটকরা ছুটে যান ছেঁড়াদ্বীপে। ট্রলারযোগে ছেঁড়াদ্বীপ
থেকে ২০ মিনিট লাগলেও বাইসাইকেলে এর চেয়ে কম সময় লাগে।
সেন্টমার্টিনের ভিতরেও সাইকেল চালিয়ে সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়।
ভেতর অংশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কেওড়া গাছ, নারিকেল গাছের মোহনীয় দৃশ্য দেখা যায় সাইকেলে
চড়ে।
![]() |
| ছবিঃ সাইকেল চালিয়ে সেন্টমার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। |
কক্সবাজার শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষে ক্ষুদ্র এ
দ্বীপটি কেবল বাংলাদেশীদের কাছে নয়, বিশ্ববাসীর জন্য আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। ৭
দশমিক ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কিছু উত্তর-দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত প্রবাল দ্বীপ
সেন্টমার্টিন।’
ভৌগলিকভাবে সেন্টমার্টিন তিন অংশে বিভক্ত। উত্তর পাড়া, মধ্য পাড়া ও
দক্ষিণ পাড়া। প্রবাল দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ ছেঁড়াদ্বীপ। জোয়ারের সময়
সেন্টমার্টিনের মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলেই এটাকে ছেঁড়াদ্বীপ বলা হয়।
প্রতি বছর দেশি বিদেশি লাখো পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসেন। তাই শুধু দ্বীপ দেখতেই
নয় সাগর পাড়ে সাইকেল চালাতেও যেতে পারে সেন্টমার্টিনে। দ্বীপের বালিতে প্রচুর
পরিমাণ পাথকুচি থাকায় সাইকেল চাঁকা দেবে যায় না। তাই সীমাহীন আনন্দে সহজেই সাইকেল
নিয়ে ঘুরা যায় পুরো সেন্টমার্টিনে।






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন