এই ব্লগটি সন্ধান করুন

মঙ্গলবার, ১৫ মে, ২০১৮

বাতাসে বিরিয়ানির সুঘ্রাণ যেখানে...


বিরিয়ানি পছন্দ করেন না এমন ভোজনরসিক খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু পছন্দ করলেই তো হবে না, বিরিয়ানি হওয়া চাই সুস্বাদু ও  স্বাস্থ্যসম্মত। তা ছাড়া দামটাও হাতের নাগালে হতে হবে। বাঙালির রসানায় এ এক খাবার যার চাহিদা সারা বছরই লেগে আছে। ঢাকা শহরের মোড়ে মোড়ে গজিয়ে ওঠা এবং টিকে যাওয়া বিরিয়ানির দোকানের দেখা পাওয়াই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।



তবে হালের গজিয়ে ওঠা বিরিয়ানির দোকানের সাথে স্বাদে আর গন্ধে টিকে আছে গুটিকয়েক বিরিয়ানির দোকান। এরকমই একটা বিরিয়ানির দেখা মিলবে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের ভেতর। নাম কামাল বিরিয়ানি হাউজ। দোকানের মালিকের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে।




এই বিরিয়ানি স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয়। চমৎকার ঝরঝরে চাল, আর নানান রকম মসলায় কষানো মাংসের যে অসামান্য মেল বন্ধন তাতে সোনায় সোহাগা হিসেবে যোগ হয় লাল করে ভাজা আলুর টুকরো। এই আলুর স্বাদও এমনই যে বিরিয়ানির অর্ধেকটা আলু দিয়েই খেয়ে ফেলা যায়। সেটা যদি খেয়ে ফেলেন চাইলেই আপনাকে আরেকটা আলু দেবে ওরা। চাইকি একটু বাড়তি পোলাও কিংবা লোকজন কম থাকলে এক টুকরো বাড়তি মাংসও উঠে আসবে আপনার পাতে। দোকানের আকার ছোটো হলেও দোকান মালিকের যে কলিজা বড় তা সেখানে না খেলে বোঝার উপায় নেই।




এই বিরিয়ানি সুস্বাদু হওয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্নের উত্তরে দোকানের কর্মচারী আফতাব হোসেন বলেন “আমরা লাকড়ির চুলায় বিরিয়ানি রান্না করি, অন্যরা গ্যাসের চুলায় রান্না করে।“
মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের সাথে বোবা বিরিয়ানির আরেকটু সামনের দিকে আগালেই চোখে পড়বে এই কামাল বিরিয়ানি হাউজ। ছোটখাটো দোকানটিতে পা রাখার জায়গা নেই, আছে শুধু বিরিয়ানির মৌ মৌ করা ঘ্রান আর সকলের বিরিয়ানির সাথে নলি পাওয়ার আবদার! এত এত কাস্টমারদের হাসিমুখেই বিরিয়ানি সার্ভ করে যাচ্ছেন দোকানের মালিক নিজেই। সকলকে তো আর নলি দিয়ে সন্তুষ্ট করা সম্ভব হয়না, তবে বিরিয়ানি তে মাংসের এবং পরিমানের কোনধরনের কমতি রাখেন না তিনি




বিহারিদের কাচ্চি স্টাইলে রান্না করা গরুর বিরিয়ানি যা চিনিগুড়া চাল দিয়ে রান্না করা হয়। মাংসের পরিমান ভাল দেয় এবং মাঝে মধ্যে মটরশুঁটির দেখাও পাবেন। আলুগুলো জাফরানের তেলে ভেজে দেয়ায় দেখতে অসাধারণ লাগে। কথা বলে জানা গেছে যে এরা ১২০ কেজি চালের সাথে ১২০ কেজি মাংস এবং ৬০ কেজি আলু ব্যবহার করে, যার ফলে বিরিয়ানি তে মাংসের কোন কমতি থাকেনা এবং সবকিছু ঠিকঠাক ভাবেই পরিবেশন করা হয়।



সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বিরিয়ানির মূল্য। এখানে ৫০ টাকা থেকে বিরিয়ানি শুরু। হাফ বিরিয়ানি পাবেন ৫০ টাকায় যেটায় থাকবে ১ টুকরা আলু আর ১ টুকরো মাংস। ৮০ টাকায় পাবেন ফুল বিরিয়ানি যার মধ্যে থাকবে ১ টুকরা আলু আর ২ টুকরো মাংস এবং রাইস থাকবে ডাবল। ১২০ টাকায় পাবেন স্পেশাল বিরিয়ানিটি যার মধ্যে ৩-৫/৬ টুকরো মাংস থাকবে ১ পিস আলুর সাথে এবং রাইস থাকবে পরিমানে অনেক বেশি। আর স্পেশাল যেটা, সেই কাঙ্খিত নলির সন্ধান এই প্লেটেই মিলবে।



এরা এক ধরনের কাবাব বা টিকা যে যেটা বলেন, এর ব্যবস্থাও করে থাকে তবে এটা সন্ধ্যার পরে ছাড়া পাবেন না। কোক, স্প্রাইট বা বোরহানির ব্যবস্থাও চাইলে করে দিতে পারে তবে সমস্যা একটাই আর তা হল বসে খাওয়ার জায়গার সঙ্কট। যে কারনে বেশিরভাগই পার্সেল করে নিয়ে আসেন। তবে আগামী সপ্তাহ থেকে তারা নতুন বড় দোকান নিচ্ছে কাস্টমারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে। প্রায় ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে তাদের সার্ভিস। কমদামে এত ভালো বিরিয়ানির স্বাদ নিয়ে কেউ অসন্তুষ্ট হয়ে ফেরেনি এখন পর্যন্ত।






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন